Cinema like this is the reason why I can't stop watching cinema
উপরের বাক্যটা আমি সব সিনেমার ক্ষেত্রে বলি না। সামান্য কিছু সিনেমার ক্ষেত্রেই বলি, যেগুলো শুধুমাত্র ইউনিক আইডিয়া দিয়ে আমাকে মুগ্ধ থেকে বাকরুদ্ধ করে ফেলে।
এই সিনেমা আপনার কতটুকু ভালো লাগবে, সেটা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করবে, যা সাধারণত সব সিনেমার ক্ষেত্রেই করে। তবে খুব বেশি ভালো লাগা আর সামান্য ভালো লাগার আলোচনা পেরিয়ে, এই সিনেমা যে একদম ফ্রেশ আর এন্টারটেইনিং, এইটুকু অনেকটা নিঃসংকোচেই বলা যায়।
সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফি কিছুটা ব্যতিক্রম। কালার গ্রেডিং দেখে শুরুতে কোন টেলিভিশন ড্রামা মনে হবে। সামান্য কিছুটা জটিলও লাগতে পারে, যেহেতু শুরুর দিকে সিনেমা খুবই দ্রুতবেগে এক সিকুয়েন্স থেকে আরেক সিকুয়েন্সে জাম্প করেছে। তবে সেটা কেন করেছে, তা বুঝতে আপনার সময় লাগবে না, ঠিক যেমন সময় লাগবে না এই জটিল ফেজটা কাটিয়ে উঠতে। কারণ বিল্ডআপের এই ফেজ- দৈর্ঘ্য অথবা গল্পের স্পিডের বিচারে খুবই সামান্য। খুব শীঘ্রই সিনেমার মূল গল্প শুরু হয়ে যাবে, যা হচ্ছে; টাইম-লুপ।
গল্পটা সহজ, মাত্র ২ মিনিট সময়ের টাইম লুপে সবাই আটকে গেছে। ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় দুই মিনিট পার হলে টাইম রিওয়াইন্ড করে সবাই ২ মিনিট পেছনে চলে যায়। পুরো টাইম রিওয়াইন্ড হওয়ার ফলে সবাই ২ মিনিট আগে যে অবস্থানে ছিল, ঠিক হুবহু সে অবস্থানে ফিরে যায়...
সো এখান থেকেই মূলত ঘটনা শুরু। টাইম-লুপের এই গল্প শুরু হওয়ার পর আমি যে কখন এই সিনেমার মুনশিয়ানায় হারিয়ে গিয়েছিলাম, তা আমি নিজেও টের পাইনি। শুরুতে বললাম না যে সিনেমাটোগ্রাফি কিছুটা টেলিভিশন ড্রামার মত লেগেছে, সেই সিনেমাটোগ্রাফির চার্ম ধরতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। খনিকের মধ্যেই পুরো সিনেমায় বুঁদ হয়ে গেলাম। হারিয়ে গেলাম শীতকালের কিবুনের সেই ছোট্ট শহরে, যেখানে প্রকৃতির বিশুদ্ধ নিঃশ্বাসের টানে ছটফট করতে থাকা মানুষ ছুটে যায়, নিজেরা একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে। তবে সেই প্রকৃতির সাথে মিশে যাওয়া প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী জায়গাতেই শুরু হয় টাইম-লুপ নামের এক অশান্তি যা ধীরে ধীরে মানুষকে তাদের সহ্যের সীমানা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।
তবে এসব অশান্তির মাঝেও এই সিনেমার সেটিং এতটাই শান্তশিষ্ট আর সুন্দর ছিল যে আমার মনে হয় এটা টাইম-লুপ ফিল্ম না হয়ে সাধারণ কোন স্লাইস অফ লাইফ ফিল্ম হলেও আমি আনন্দ সহকারে এটা দেখে নিতাম।
সিনেমার লেন্থ মাত্র ৮৬ মিনিটের। পেসিং বুলেট ট্রেন গতির। তবে সবচেয়ে প্রশংসনীয় ব্যাপার হচ্ছে যে এই পেসিংয়েও সিনেমার ডিটেইলসে বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়া হয়নি। মাত্র ৮৬ মিনিটেই সবকিছু ঝটফট দেখিয়ে ফেলা হয়েছে, বাসি হয়ে যাওয়ার পূর্বেই৷
সো এটা আপনার কাছে মাস্টারপিস পর্যায়ে না লাগলেও এন্টারটেইনিং লাগবে যদি টাইম-লুপ জাতীয় কনসেপ্টে আপনার সমস্যা না থেকে থাকে আরকি। আমার কাছে মাস্টারপিস পর্যায়ে লেগেছে কিনা, সে প্রসঙ্গে যাবো না। আমার জন্য এই টাইপ সিনেমা প্রয়োজন। মাঝেমধ্যে সবকিছু থেকে ঝিমুনি চলে আসে। সিনেমাও স্বাদহীন লাগা শুরু হয়। এমন সময় এই টাইপ সিনেমা দেখলে কিছুক্ষণের জন্য সিনেমার প্রতি সেই পুরনো ভালোবাসাটা জাগ্রত হয়ে ওঠে। এখানে "এই টাইপ" সিনেমা বলতে আমি টাইম লুপ জাতীয় সিনেমা বোঝাইনি। এই টাইপ বলতে সেটা যেকোনো ইউনিক সিনেমা হতে পারে। যেমন ৪-৫ টি ভিন্ন টাইমলাইনকে কেন্দ্র করে তৈরি সিনেমা Fish Story (2009) অথবা ননলিনিয়ার স্টাইলে বলা তুখোড় গল্প Stranger of Mine (2005) ও হতে পারে। তবে লক্ষণীয় ব্যাপার হচ্ছে, এমন ব্যতিক্রমী সিনেমাগুলোর দেখা জাপানেই বেশি মেলে।
জাপানে One Cut of the Dead (2017) এর সফলতার পর এমন লিমিটেড সেটিং ইউনিক আইডিয়ায় বেশ কিছু সিনেমা তৈরি হচ্ছে। One of Cut of the Dead টাইম-লুপ-ট্রুপ নিয়ে না হলেও বাকি ফলো-আপগুলো বেশিরভাগই টাইম ট্রাভেল অথবা টাইম-লুপ, টাইম-লিপ এগুলোর উপর তৈরি হচ্ছে। এই পরিচালকই ২০২০ সালে Beyond the Infinite Two Minutes বানিয়েছিলেন (এখানেও দুই মিনিটের খেল), যা আমার দেখা সবচাইতে ইউনিক সিনেমাগুলোর একটি। এবার সে কামব্যাক করলেন এই সিনেমা দিয়ে। আমার মতে Beyond the Infinite Two Minutes এর মত সিনেমা বানিয়ে, পুরো বিশ্ব কাঁপিয়ে দিয়ে আবার ৩ বছর পর ঠিক একই স্টাইলে আরেক এজাতীয় সিনেমা আনাটা সহজ হলেও, এমন কোয়ালিটি ধরে রাখা মোটেও সহজ নয়। আমি নিজেই এক্সপেক্ট করিনি। যেকারণে এই পরিচালককে সেভাবে ফলো করিনি। কিন্তু তিনি এই কাজ দিয়ে আমাকে অবাক করলেন, মুগ্ধ করলেন, সিনেমার প্রতি আমার আগ্রহ (হয়ত) আবারো ফিরিয়ে আনলেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তিনি আবারো আমাকে মনে রাখার মত, হারিয়ে যাওয়ার মত দেড় ঘণ্টা উপহার দিলেন। এজন্য আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। এই আজাইরা, বোরিং লেখাটা তাকে ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করতে চাই,
ধন্যবাদ, জুনতা ইয়ামাগুচি।
★★★★
Tags
জাপানিজ সিনেমা


.jpg)