পার্ফেকশনিস্টের কথা বললে বেশিরভাগ হয়ত জ্যাকি চ্যান, চাও ইউন-ফাট, লেজলি চিউং অথবা টনি লিউং চিউ-ওয়াইর নাম বলবেন কিন্তু "ওভারঅল প্যাকেজ" হিসেবে আমি অ্যান্ডি লাউকেই এগিয়ে রাখবো। অভিনয়ে ভার্সাটাইলিটির দিক দিয়ে লেজলি চিউং, টনি লিউং তাঁর থেকে নিঃসন্দেহে এগিয়ে থাকবেন। কারিশমাটিক চরিত্রের ক্ষেত্রে চাও ইউন-ফাট হংকং এর অবধারিত সেরা। সুদর্শনের দিক থেকে লেজলি চিউং অঘোষিত রাজা। অ্যাকশনে জ্যাকি চ্যান তো পুরো বিশ্বের সেরা কিন্তু সবদিকে বিবেচনা করলে অন্যান্য অভিনেতাদের দুর্বলতাটা চোখে পড়ে যেটা অ্যান্ডি লাউর ক্ষেত্রে পড়ে না৷
যেমন ধরেন লেজলি চিউং অ্যাকশন সিনেমায় ততো একটা পারদর্শী নন। জ্যাকি চ্যান কারিশমাটিক রোলে অভ্যস্ত নন। চাও ইউন-ফাট হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট তেমন একটা করতেন না। টনি লিউং অ্যাকশনে খুব বেশি ঝাঁঝালো কিছু দেখাননি তাঁর ক্যারিয়ারে কিন্তু অ্যান্ডি লাউ মেলোড্রামা, কমেডি, গান-ফু, হ্যান্ড-টু-হ্যান্ড কমব্যাট, কারিশমাটিক রোল ইত্যাদি ইত্যাদি সবকিছু করেছেন পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে।
তবে খেয়াল করলে দেখবেন যে অ্যান্ডি লাউ লেজলি চিউংয়ের মত সুপ্রিমলি ট্যালেন্টেড অভিনেতা নন, টনির মত এক্সপ্রেশনও তাঁর নেই কিন্তু অ্যান্ডি লাউ হচ্ছেন প্রচণ্ড পরিশ্রমী একজন অভিনেতা। সে তাঁর সুদর্শন দিয়ে পপ জগতে যেমন রাজত্ব করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে পরিশ্রম করে রাজত্ব করেছেন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। অ্যান্ডি লাউ ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অনেক অ্যাকশন সিনেমা করেছেন, তাঁর ফাস্ট-পেসড ফাইট সিন দেখলে মনে হবে তিনি জাত অ্যাকশন স্টার। তবে তিনি এক জনরাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। As Tears Go By (1988), Running Out of Time (1999), Fulltime Killer (2001) এর মত সিনেমায় অভিনয় করেছেন ঝাঁঝালো গ্যাংস্টার অথবা অ্যান্টাগনিস্টের চরিত্রে। অন্যদিকে এশিয়ার কমেডি সিনেমার আইকন, স্টিফেন চাওর সাথে তাল মিলিয়ে করেছেন কমেডি সিনেমা, যেমন: Tricky Brains (1991), God of Gamblers II (1991)৷
তাঁর স্কিলফুল, সাবলীল অভিনয়ের প্রমাণ রেখেছেন তিনি Infernal Affairs (2002) এবং A Simple Life (2011) এর মত সিনেমায়। ৩ বার হংকংয়ে জিতেছেন শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার যেখানে অনেক বড় অভিনেতারা ১ বারও জেতেনি। Running Out of Time (1999), Running on Karma (2003) এবং A Simple Life (2011) এর জন্য এপর্যন্ত তিনি তিনবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার জিতেছেন।
এছাড়া অ্যান্ডি লাউ হংকংয়ে ৩ বার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পাশাপাশি একবার জিতেছেন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার পুরষ্কার (২০০৭ সালের ফিল্ম, Protégé এর জন্য)। তাইওয়ানে জিতেছেন দুইবার গোল্ডেন হর্স ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ক্যাটাগরিতে (Infernal Affairs III এবং A Simple Life সিনেমার জন্য)
![]() |
| জনি টো পরিচালিত Running Out of Time (1999) সিনেমায় অ্যান্ডি লাউ। |
![]() |
| ওয়াই কা-ফাই এবং জনি টো পরিচালিত Running on Karma (2003) সিনেমায় অ্যান্ডি লাউ। |
![]() |
| অ্যান হাই পরিচালিত A Simple Life (2011) সিনেমায় অ্যান্ডি লাউ। |
সুদর্শনের বিষয়ে উপরে বলছিলাম যে লেজলি চিউং অঘোষিত রাজা হংকংয়ে তবে অ্যান্ডি লাউও কারো থেকে পিছিয়ে নেই। অনেকের মতে হংকং অভিনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে সুদর্শন অভিনেতা হচ্ছেন অ্যান্ডি লাউ।
বক্স-অফিসেও তিনি পিছিয়ে নেই। ২০০৫ সালের এক রেকর্ডে দেখা যায় যে গত ২০ বছরে, অর্থাৎ ১৯৮৫-২০০৫ সালে হংকংয়ের #১ বক্স-অফিস তারকা ছিলেন অ্যান্ডি লাউ। তাঁর সিনেমার সর্বমোট আয় হংকংয়ের যেকারো ফিল্মোগ্রাফি থেকে বেশি ছিল।
(অনেকে ভাবতে পারেন যে ২০২২ সালে এসে ২০০৫ এর স্ট্যাট কতোটা গুরুত্ব বহন করে। এবিষয়ে আলোচনা করতে গেলে এখন টপিক পাল্টে যাবে, তাই এবিষয়ে একদিন আলাদা আলোচনা করতে হবে)
![]() |
| The Bodyguard (2016) সিনেমার প্রিমিয়ারে অ্যান্ডি লাউ। |
অ্যান্ডি লাউর ক্যারিয়ারে খুঁত খুঁজে পাওয়া মুশকিল। উনি যখনই যা করেছেন, নিখুঁতভাবে করেছেন, নিষ্ঠার সাথে করেছেন। আমার মতে এশিয়ার অ্যাক্টিভ অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম সেরা অভিনেতা তিনি।
তাঁর হাতে বর্তমানে বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং প্রোজেক্ট রয়েছে, যারমধ্যে East Side Stories (পূর্ববর্তী এটা Goldfinger এবং Once Upon a Time in Hong Kong নামেও পরিচিত ছিল) অন্যতম। এই সিনেমা নিয়ে ভক্তদের মাঝে তুমুল হাইপ উঠেছে। আর উঠবেই না কেন? টনি লিউংয়ের সাথে ১৯ বছর পর একসঙ্গে কাজ করবেন তিনি। সাথে থাকবেন আরেক হাই প্রোফাইল অভিনেতা সিমন ইয়াম। পরিচালনা করবেন ফেলিক্স চং। শুধু হংকং নয়, পুরো এশিয়ার সবচেয়ে আলোচিত আপকামিং সিনেমাগুলোর একটি বর্তমানে এই সিনেমা।
![]() |
| East Side Stories সিনেমায় টনি লিউং (বামে) এবং অ্যান্ডি লাউ (ডানে) |





