জ্যাকি চ্যান- আমাদের সকলের শৈশবের হিরো৷ জ্যাকি চ্যানের সিনেমা দেখে কমবেশি আমরা সবাই বড় হয়েছি৷ ভয়ানক সব স্টান্টস করে প্রতিনিয়ত তিনি নিজের শরীরের উপর করেছেন অত্যাচার। নিজের স্টান্ট তো নিজে করতেনই, তার উপর আবার করতেন ভয়ানক সব স্টান্ট নামমাত্র নিরাপত্তার সাথে৷ ৬০ বছরেরও দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জ্যাকি চ্যান শিশুশিল্পী থেকে নিয়ে বৃদ্ধের ভূমিকায় কাজ করেছেন। সাদাকালো, রঙ্গীন, থ্রি-ডি এবং অ্যানিমেটেড সিনেমা/সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। যা খুবই বিরল। অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার, পরিচালক, লেখক, অভিনেতা, স্টান্ট পরিচালক, স্টান্টম্যান সহ বিভিন্ন ভূমিকায় তিনি কাজ করেছেন এপর্যন্ত প্রায় ২'শত সিনেমায়৷
জ্যাকি চ্যান হচ্ছেন একজন প্রকৃত শিল্পী যিনি প্রতিনিয়ত নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং সবসময়ই সে চ্যালেঞ্জ জয় করে ফিরেছেন।
এমন এক বিশাল তারকা ক্যারিয়ার জুড়ে আমাদের উপহার দিয়েছেন দারুণ দারুণ সিনেমা। সেখান থেকে ১০ টি বাছাই করা প্রায় অসম্ভব কাজ। তবে জ্যাকি চ্যানের একজন একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে, সম্পূর্ণ নিজের অবজারভেশন থেকে তাঁর শ্রেষ্ঠ ১০ টি সিনেমা বাছাই করবো আজ। আমি জ্যাকি চ্যানের সিনেমা শুধু দেখিনি, আমি রীতিমতো তাঁর সিনেমায় বসবাস করেছি লম্বা সময়। আমি কৈশোরকালের দীর্ঘ সময় কেটেছে জ্যাকি চ্যানে আসক্ত হয়ে। সেই পুরনো স্মৃতিতে একটু হারিয়ে যাওয়ার লোভে আজ তাঁর শ্রেষ্ঠ ১০ টি সিনেমা বাছাই করবো। এই টপিক তো একটা ছুতো৷ আসল কারণ হচ্ছে সিনেমাগুলো নিয়ে লেখার মাধ্যমে একটু অতীতে ফিরে যাওয়া।
10.The Young Master (1980)
dir: Jackie Chan
১৯৭৮ সালে ব্রেক পাওয়ার পর থেকে জ্যাকি চ্যানের নিজের সিনেমায় আর্টিস্টিক কন্ট্রোল বেড়ে যায়। যার ফলে তিনি ১৯৭৯ সালেই পরিচালক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন Fearless Hyena সিনেমার মাধ্যমে। তারপরের বছর নির্মাণ করেন এই সিনেমা। ট্রেডিশনাল মার্শাল আর্টস সিনেমা। জ্যাকি চ্যান নিজেই পরিচালনা, অভিনয় এবং অ্যাকশন কোরিওগ্রাফির কাজ করেছেন। হাতপাখা দিয়ে এই সিনেমায় একটি মারামারির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল, যা আজও ভক্তদের মাঝে প্রচণ্ড বিখ্যাত। এই মারামারির একটি শটের জন্য জ্যাকি চ্যান ৪২৭ টি টেক নিয়েছিলেন, যা ছিল সেসময়ের এক শটের জন্য নেয়া সবচেয়ে টেক। অবশ্য এখনো এই রেকর্ড অব্যাহত আছে কিনা তা আমার জানা নেই।
যারা ট্রেডিশনাল মার্শাল আর্টস পছন্দ করেন, তারা এই সিনেমা খুব উপভোগ করবেন। কারণ এই সিনেমার মারামারির দৃশ্যগুলো অনেক ক্রিয়েটিভ। এই সিনেমায় জ্যাকি চ্যানের সাথে অভিনয় করেছেন উয়েন বিয়াও।
9.Dragons Forever (1988)
dir: Sammo Hung
হংকংয়ের বিখ্যাত ত্রয়ী "জ্যাকি চ্যান-সাম্মো হাং-উয়েন বিয়াও" কে ভক্তরা "দ্য থ্রী ড্রাগনস" অথবা "দ্য থ্রী ব্রাদার্স" বলে ডাকেন। তিনজনেই বিখ্যাত মার্শাল আর্টস অভিনেতা। এক সাথেই বড় হয়েছেন, একই স্কুলে মার্শাল আর্টস, অভিনয়, শিল্প শিখেছেন। তাঁরা তিনজনেই প্রচণ্ড দক্ষ অ্যাকশান অভিনেতা। এই ৩ জন যখন এক হয়, তখন তাদের স্কিলের প্রতিফলনে স্ক্রিন বিস্ফোরিত হয়ে যায়। অ্যাকশান-কমেডিতে ভরপুর থাকে তাদের সিনেমা।
এই Dragons Forever ই হচ্ছে এই তিন কিংবদন্তির একসঙ্গে সর্বশেষ সিনেমা। তারপর আর তাদের কখনো একসাথে দেখা যায়নি।
সিনেমায় জ্যাকি চ্যান একজন উকিলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি একটি জটিল কেস সমাধানে তাঁর দুই বন্ধুর দারস্থ হন। ঐ দুই বন্ধু আবার একে অপরকে চিনে না আর দু'জনের চরিত্রও দুই মেরুর। তাদের দু'জনের সাথে মিলে জ্যাকি চ্যানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড আর জটিল পরিস্থিতি নিয়ে এই সিনেমা তৈরি। জ্যাকি চ্যানের দুই বন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাম্মো হাং এবং উয়েন বিয়াও।
8. The Legend of Drunken Master (1994)
dir: Lau Kar-leung
জ্যাকি চ্যানের সর্বশেষ ট্রেডিশনাল মার্শাল আর্টস সিনেমা। এই সিনেমা বেশ কিছু কারণে আপনার দেখার আগ্রহ জাগতে পারে। সর্বপ্রথম কারণ হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম সেরা অ্যাকশন কোরিওগ্রাফার এবং পরিচালক লাউ কার লিউং-য়ের সঙ্গে এটা জ্যাকি চ্যানের সর্বপ্রথম কোলাবোরেশান৷ (সর্বশেষও বটে)
এই সিনেমা শ্যুটিংয়ের সময় জ্যাকি চ্যানের বয়স ছিল ৪০ বছর, কিন্তু জ্যাকি চ্যান এই সিনেমায় একজন অল্পবয়সী যুবকের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এই সিনেমায় জ্যাকি চ্যানের বাবার চরিত্রে অভিনয় করা টি লুংয়ের বয়স বাস্তবে জ্যাকি চ্যানের থেকে মাত্র ৮ বছর বেশি৷ আর জ্যাকি চ্যানের সৎ মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করা আনিতা মুইর বয়স জ্যাকি চ্যানের থেকে ৯ বছরের কম।
এই সিনেমার মারামারির দৃশ্যগুলো বরাবরের মতই দারুণ। যা জ্যাকি চ্যানের সকল সিনেমাতেই থাকে। তবে এই সিনেমার ফাইনাল ফাইটকে বলা হয় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাইনাল ফাইট সিন। তবে এই ট্যাগলাইন জ্যাকি চ্যানের আরেকটি সিনেমার ফাইনাল ফাইটও পেয়েছে। সেটাও এই তালিকায় খুঁজে যাবেন সামনে।
ফাইনাল ফাইট সিনের সময় জ্যাকি চ্যানের সাথে ক্রিয়েটিভ ডিফারেন্স এর জন্য পরিচালক লাউ কার-লিউং সিনেমার কাজ ছেড়ে চলে যান। পরে ফাইনাল ফাইট সিনের পরিচালনা জ্যাকি চ্যান নিজেই করেন।
7.Crime Story (1993)
dir: Kirk Wong, Jackie Chan (uncredited)
লম্বা সময় জ্যাকি চ্যানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ভালো সিরিয়াস ফিল্ম হিসেবে পরিচিত ছিল এই সিনেমা। এখন এই সিনেমার ২৭ বছর পর মুক্তি পাওয়া The Foreigner (2017) কে প্রায় সবাই জ্যাকি চ্যানের শ্রেষ্ঠ সিরিয়াস ফিল্ম বলে থাকেন তবে, আমার মতে Crime Story ই চ্যান দ্য ম্যানের ক্যারিয়ার সেরা সিরিয়াস ফিল্ম। এটাতে অ্যাকশনও তুলনামূলক কম। এটা জ্যাকি চ্যানের পিক টাইমের সবচেয়ে বেশি গল্প-নির্ভর সিনেমা। চাইনিজ ব্যবসায়ী টেডি ওয়াংয়ের অপহরণের বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে তৈরি এই সিনেমা। শুরুতে জেট লিকে ইন্সপেক্টর এডি চ্যানের রোলের জন্য বিবেচনা করা হয়েছিল কিন্তু জ্যাকি চ্যান বেশ আগ্রহী ছিলেন এই রোলে এবং শেষপর্যন্ত তাকেই নেয়া হয়। সিনেমায় অ্যাকশন তুলনামূলক কম হলেও যা ছিল, তারমধ্যেই একটি স্টান্ট করতে গিয়ে জ্যাকি চ্যানের পা ভেঙ্গে গেছিল।
6.Operation Condor (1991)
dir: Jackie Chan
১৯৮৬ সালের সিনেমা Armour of God এর সিকুয়েল। প্রথমটার মত এটাও গুপ্ত খাজানা খোঁজার উপর নির্মণ করা হয়েছে। প্রথমটা বেশ ভালো, কিন্তু আমার মতে এটা প্রথমটার তুলনায় এগিয়ে।
সিনেমায় জ্যাকি চ্যান আগের পার্টের মত এবারও "Asian Hawk" চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যিনি বিভিন্ন জায়গায় থেকে গুপ্ত খাজানা খুঁজে বের করেন। এই সিনেমার ৩য় পার্ট মুক্তি পেয়েছে ২০১২ সালে Chinese Zodiac aka CZ12 নামে। যা জ্যাকি চ্যানের ক্যারিয়ারের সর্বশেষ অ্যাকশন সিনেমা, যেখানে তিনি নিজের স্টান্ট নিজেই করেছেন।
5. Drunken Master (1978)
dir: Yuen Woo-ping
চ্যান দ্য ম্যানকে পুরো এশিয়ায় জনপ্রিয় করে তোলেছিল এই সিনেমা। এটাকে Snake in the Eagle's Shadow (1978) সিনেমার সেমি-সিকুয়েল বলা হয়। প্রায় একই সেটিং আর কাস্ট নিয়ে এই সিনেমা বানানো হয়েছে। Snake in the Eagle's Shadow জ্যাকি চ্যানকে স্টার বানিয়েছে, আর Drunken Master বানিয়েছে সুপারস্টার। দারুণসব ট্রেইনিং সিকুয়েন্স আর মারামারির দৃশ্য রয়েছে এই এভারগ্রীন ক্লাসিক সিনেমায়।
4. Project A (1983)
dir: Jackie Chan
দ্য থ্রী ড্রাগনস, অর্থাৎ তিন বন্ধু; জ্যাকি চ্যান-সাম্মো হাং-উয়েন বিয়াও একসঙ্গে অভিনীত সর্বপ্রথম সিনেমা। পূর্বে তারা একসঙ্গে এই-সেই সিনেমায় কাজ করলেও তিনজন একই সঙ্গে কোন সিনেমার মেজর রোলে অভিনয় করেননি। এটার মাধ্যমে দ্য থ্রী ড্রাগনস রসায়নের সূচনা হয়, যার স্থায়ীত্ব ছিল ১৯৮৮ সালের Dragons Forever সিনেমা পর্যন্ত। তারা একসঙ্গে মোট ৬ টি সিনেমায় কাজ করেছেন, তবে এরমধ্যে তিনটি সিনেমাকে তাদের সিনেমা বলা যায় না। সেই তিনটি হচ্ছে: Winner and Sinners (1983), My Lucky Star (1985) এবং Twinkle Twinkle Lucky Star (1986)। এই তিনটি সিনেমায় সাম্মো হাং মূল ভূমিকায় থাকলেও জ্যাকি চ্যান এবং উয়েন বিয়াও ছিলেন কখনো সহযোগী অথবা কখনো অতিথি শিল্পীর ভূমিকায়। তাদের প্রধান চরিত্রে একসঙ্গে সিনেমা মাত্র ৩ টি। যারমধ্যে একটি হচ্ছে Project A (1983)। পৃথিবীর শীর্ষ তিনজন মার্শাল আর্টিস্ট, যারা নিজেদের স্টান্ট নিজেরাই করেন, প্রতিদিন মৃত্যুর মুখোমুখি হন অ্যাকশন সিনেমা তৈরি করতে। এছাড়া নিজেরাই নিজেদের অ্যাকশন কোরিওগ্রাফ করেন। এমন তিনজন একসঙ্গে হলে কেমন ধামাকা তৈরি হতে পারে তা আপনি নিজে না দেখে কল্পনা করতে পারবেন না।
3. Project A II (1987)
dir: Jackie Chan
তালিকার উপরে থাকা Project A সিনেমার দ্বিতীয় পার্ট। পৃথিবীতে কম মানুষই এটাকে প্রথম পার্টের উপরে রাখবেন তবে সার্বিক বিবেচনায় আমার কাছে এটা কিঞ্চিত এগিয়ে। দুই সিনেমাই মাস্টারপিস তাই মার্জিনটা খুব কম। আপনি চাইলে যেকোনো একটাকে বেটার বলতে পারেন, কোনটাই ভুল হবে না।
এই পার্টে সাম্মো হাং এবং উয়েন বিয়াও নেই। এই বিষয়টার কারণে অনেকে কিঞ্চিত কষ্ট পেতে পারেন, আমিও পেয়েছিলাম। কিন্তু দেখার পর আমার আর কোন অভিযোগ ছিল না। এই সিনেমা জ্যাকি চ্যানের বানানোর পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু হংকংয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা জ্যাকি চ্যানকে চিঠি পাঠিয়ে Project A সিনেমার দ্বিতীয় পর্ব বানানোর অনুরোধ করেন, ফলে তিনি এই পর্ব বানান। এই সিনেমায় জ্যাকি চ্যানের সাথে ছিলেন হংকংয়ের চিরসবুজ অভিনেত্রী ম্যাগি চিউং, রোসামান্ড কোয়াং, কেনি হো ইত্যাদি ইত্যাদি। দারুণসব অ্যাকশন, কমেডি, স্টান্টসের দেখা মিলবে এই সিনেমায়।
2. Wheels on Meals (1984)
dir: Sammo Hung
উপরে তো থ্রী ড্রাগনসের লিগ্যাসি সম্বন্ধে লিখেছিই। এটা তাদের একসঙ্গে তৈরি আমার মতে শ্রেষ্ঠ কাজ। সেসময় জ্যাকি চ্যান-সাম্মো হাং-উয়েন বিয়াও এতোটাই জনপ্রিয় হয়ে গেছিলেন যে হংকংয়ের রাস্তায় তাদের জন্য শ্যুটিং করা সম্ভব ছিল না। তাই এই সিনেমার শ্যুটিংয়ের কাজ হয়েছে স্পেনের বার্সেলোনা শহরে। এই সিনেমার শেষ ফাইট সিনকে ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফাইট সিন বলা হয়, যেখানে জ্যাকি চ্যানের প্রতিপক্ষ ছিলেন বিখ্যাত আমেরিকান কিকবক্সার বেনি আরকিদেজ৷ তাকে পরবর্তীতে দ্য থ্রী ড্রাগনসের শেষ সিনেমা Dragons Forever-য়েও দেখা গেছিল তবে দু'টোর মধ্যে এটার ফাইট সিনটা বেশি জনপ্রিয়।
আমি এই সিনেমা প্রথম যেদিন দেখেছিলাম, তারপর লাগাতার ১০-১৫ দিন এটা রিওয়াচ দিয়েছিলাম নিয়মিত। এই সিনেমা আমার প্রচণ্ড প্রিয় একটি সিনেমা।
1.Police Story (1985)
dir: Jackie Chan
জ্যাকি চ্যানের শ্রেষ্ঠ সিনেমার তালিকায় এটাকে ১-য়ে না রাখাটা রীতিমতো অন্যায় হবে। অ্যাকশন সিনেমা ইতিহাসের মাইলফলক। এই সিনেমা লেখা, পরিচলনা, অ্যাকশন কোরিওগ্রাফ, স্টান্ট পরিচালনা এবং অভিনয়ের দায়িত্ব জ্যাকি চ্যান নিজেই সেরেছেন। এমনকি সিনেমার গানও সে নিজেই গেয়েছেন। অবশ্য এটা জ্যাকি চ্যানের জন্য নতুন অথবা শেষ নয়। প্রায়শই সে তাঁর সিনেমার ক্রিয়েটিভ কনট্রোল নিজের হাতেই রাখেন। এক সিনেমায় সর্বোচ্চ ভূমিকায় কাজ করার গিনেজ রেকর্ডও করেছেন তিনি। তবে নিজে সব করা, আর নিজে সবকিছু করে একটি ইতিহাসের সাক্ষী সিনেমা বানানো আলাদা ব্যাপার। জ্যাকি চ্যান শুধু নিজেই সব করেননি, বরং তৈরি করেছেন সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অ্যাকশন সিনেমা। এই সিনেমা এত ভয়ানক এবং রিয়্যালিস্টিক স্টান্ট ছিল যে এই সিনেমার স্টান্ট মেম্বাররা ফিল্ম সেটের চেয়ে হসপিটালে বেশি সময় পার করেছেন। একদল হসপিটাল থেকে আসতো, আরেকদল হসপিটালে ভর্তি হতো। জ্যাকি চ্যান নিজেও বেশ কিছু বড় বড় ইঞ্জুরির শিকার হয়েছিলেন এই সিনেমা করতে গিয়ে। নিজের অটোবায়োগ্রাফিতে জ্যাকি চ্যান এটাকে তাঁর শ্রেষ্ঠ অ্যাকশন সিনেমার টাইটেল দিয়েছেন। আমার নজরে এটা জ্যাকি চ্যানের ক্যারিয়ারের অবধারিত শ্রেষ্ঠ এবং এই ক্যাটাগরির সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিনেমা।




.jpg)





.jpg)